প্রীতম-শেহতাজের দাম্পত্যে ইতি, নতুন অধ্যায়ের পথে তারকা জুটি
তারকাদের প্রেম, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদের খবর ঘিরে দর্শক-ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। পর্দায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে দেখা যাওয়া থেকে শুরু করে তাদের ব্যক্তিজীবনের নানা অধ্যায়ও ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও অভিনেত্রী-গায়িকা শেহতাজ মনিরা হাশেমের নাম।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও দাম্পত্য জীবনের পর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা জুটি। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক পোস্টে তারা বিষয়টি জানান।
পৃথক পোস্টে তারা জানান, একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য তারা কৃতজ্ঞ। পরস্পরের প্রতি এখনও যত্ন ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা থাকাই তাদের জন্য ভালো।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ভেবেচিন্তে, পরস্পরের সম্মতিতে এবং পরিবারের সমর্থন নিয়ে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন একটি অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
মিউজিক ভিডিও থেকে পরিচয়, এরপর প্রেম
২০১৭ সালে ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজের সূত্রে প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় পরবর্তী সময়ে রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে।
কয়েক বছরের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের অক্টোবরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর বিয়ে—সব মিলিয়ে তাদের সম্পর্কের পথচলা ছিল দীর্ঘ সময়ের।
তবে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও সবসময় একই বাস্তবতায় স্থায়ী হয় না। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন, অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশায় পরিবর্তন আসতে পারে। কখনো কখনো পাশাপাশি পথ চলতে চলতেই দুজন মানুষ উপলব্ধি করেন, তাদের ভবিষ্যতের পথ হয়তো আর এক নয়।
তারকাদের বিচ্ছেদ নতুন নয়
বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে তারকা দম্পতির বিচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে আলোচিত উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে তাহসান রহমান খান ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলার বিচ্ছেদ। ২০০৬ সালে বিয়ে করা এই জুটি ২০১৭ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দেন।
প্রীতম-শেহতাজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাদের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তারা পারস্পরিক যত্ন ও শ্রদ্ধার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং পরিবারের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান, মানিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা ও দুজনের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো সম্পর্কের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও দুজন মানুষের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হতে পারে।