শিশু হাসপাতালে বাচ্চা কেনাবেচা হাসপাতালের ভিতরে নান্নু,বাহিরে জামাল, অপু, ফয়সাল
ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর সাময়িকভাবে দালালি বন্ধ হলেও আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্র। হাসপাতালটির কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড মাস্টার নান্নুর প্রত্যক্ষ মদদে নতুন করে দালালির শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বহিরাগতদের নিয়ে এই সিন্ডিকেটের মূল কার্যক্রম পরিচালনা করছে জামাল (পিচ্চি জামাল) নামের এক ব্যক্তি। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পিচ্ছি জামাল তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে শিশু হাসপাতালে অবস্থান নেয়। কর্মকর্তাদের নির্দেশে হাসপাতালে আসা অসহায় রোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠাতে বাধ্য করা হয়। ওয়ার্ড বয়দের ওপর চাপ প্রয়োগ করে রোগী সরানোর এই প্রক্রিয়ার জবানবন্দিমূলক ভিডিও ফুটেজও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে।
ক্লিনিক ব্যবসা ও শেয়ার বাণিজ্য
অভিযোগ রয়েছে, শ্যামলী ও তার আশেপাশের অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে কর্মকর্তা জড়িত। শ্যামলীর 'ব্রিটেন হাসপাতাল'সহ বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তার শেয়ার রয়েছে। বহিরাগতদের কাছে তিনি নিজেকে শিশু হাসপাতালের হবু পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ওয়ার্ড মাস্টার নান্নু দলীয় প্রভাবে এতোটাই প্রভাবশালী যে, তিনি হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা বা পরিচালককে তোয়াক্কা করেন না।
দালাল সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেন ও কমিশন চিত্র:
রোগীপ্রতি কমিশন: শিশু হাসপাতাল থেকে রোগী সরালেই মোট ১৬,০০০ টাকা কমিশন প্রাপ্তি।
কমিশনের ভাগাভাগি: কর্মকর্তাদের দিয়া হয় ৮,০০০ টাকা; অবশিষ্ট টাকা ভাগ হয় নান্নু ও চক্রের মাঝে।
মাসিক লেনদেন: দালালির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন।
খরচের তফাৎ: শিশু হাসপাতালে ICU খরচ দিনে ৫,০০০-৬,০০০ টাকা; অথচ প্রাইভেট ক্লিনিকে বিল ধরানো হয় ৩৫,০০০-৪০,০০০ টাকা।
রোগী জিম্মি ও গলাকাটা বিল
শিশু হাসপাতালে আইসিইউ (ICU)-এর দৈনিক খরচ মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হলেও, দালালদের মাধ্যমে রোগীদের যেসব নিম্নমানের ক্লিনিকে পাঠানো হয় সেখানে পরবর্তীতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ভুয়া ও বিশাল অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আসা অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলো সঠিক চিকিৎসার আশায় এসে সর্বস্ব হারাচ্ছে।
জরুরি ভিত্তিতে কর্মকর্তারদের ও ওয়ার্ড মাস্টার নান্নুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে এবং রাতের বেলার এই বহিরাগত সিন্ডিকেট বন্ধ না করলে দূর-দুরান্ত থেকে আসা শিশুরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতেই থাকবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন,
অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।