পাতার বাঁশরিতে প্রেমের গল্প
চেনা মুখও কখনো কখনো নতুন রূপে ধরা দেয়। জাগিয়ে তোলে বিস্ময়, তৈরি করে নতুন প্রত্যাশা। কণ্ঠশিল্পী সুনিধি নায়েককে নিয়েও এখন সংগীতপ্রেমীদের অনুভূতি অনেকটা এমনই। সদ্য প্রকাশিত ‘পাতার বাঁশরি’ গানটি যেন তাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে শ্রোতাদের কাছে।
অনলাইন সংগীত প্ল্যাটফর্ম ‘কোক স্টুডিও বাংলা’-য় প্রকাশিত গানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি গান নয়; বরং প্রেম, অপেক্ষা ও আকুলতার এক নির্মল গল্প। দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুরে প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, বিরহ আর ভালোবাসার আবেগকে সহজ কথায় ও সুরে তুলে ধরা হয়েছে এতে। আর সেই আবেগময় পরিবেশনাই নতুনভাবে মুগ্ধ করেছে সুনিধির অনুরাগীদের।
সুনিধি নায়েকের সংগীতজীবনের শুরু থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ স্পষ্ট। ‘বন্ধু রহো সাথে’, ‘ও যে মানে না মানা’ কিংবা ‘বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি’—তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত এসব গান শ্রোতাদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
শান্তিনিকেতনের পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং বিশ্বভারতীতে পড়াশোনার সুবাদে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি গড়ে ওঠা ছিল স্বাভাবিক। তবে সেখানেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি।
শাস্ত্রীয় সংগীতে দক্ষতার পাশাপাশি অর্ণবের সঙ্গে গাওয়া ‘সন্ধ্যাতারা’ গানেও নিজের বহুমাত্রিকতা দেখিয়েছেন। আধুনিক মৌলিক গানেও সমান স্বাচ্ছন্দ্য তাঁর। ‘প্রান্তরের গান’ এবং ‘আড়ালে থেকো’ শিরোনামের অ্যালবাম সেই পরিচয়েরই প্রমাণ।
বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে সুনিধি নায়েকের আরেকটি পরিচয় তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে। সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে ‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় অভিষেক করেছেন।
অভিনয়ে আসার বিষয়ে সুনিধি বলেন, “যারা আমাকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চেনেন, তারা বড় পর্দায় দেখে অবাক হতেই পারেন। তবে আমি মনে করি, অভিনয়ে আসা আমার জন্য স্বাভাবিক ছিল। কারণ আমি ড্যান্স ড্রামা নিয়ে পড়াশোনা করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই মঞ্চে কাজ করেছি। এটাও শিল্পেরই একটি মাধ্যম। পরিচালক আজমান রুশো যখন ‘রকস্টার’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, তখন নির্দ্বিধায় রাজি হই। এটি আমার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। সামনে আরও কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পাবে।”
অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সুনিধি স্পষ্ট জানালেন, গানই তাঁর প্রথম ভালোবাসা।
তিনি বলেন, “অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার খুব একটা ইচ্ছা নেই। মাঝে মাঝে ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র পেলে কাজ করব। কিন্তু সবকিছুর আগে আমি গানের মানুষ। গানই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। ‘পাতার বাঁশরি’র মতো ভিন্নধর্মী গান কিংবা নতুন নতুন সংগীত আয়োজনের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছাকাছি থাকতে চাই। যত কিছুই করি না কেন, আমার শিকড় কেবলই গান।”
‘পাতার বাঁশরি’র সাফল্যের মধ্য দিয়ে সুনিধি নায়েক যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, তিনি শুধু একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী নন; বরং সংগীতের নানা ধারায় নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম এক বহুমাত্রিক শিল্পী।