অসুস্থতার গুঞ্জনের মধ্যেই মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, থামেনি জল্পনা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে তাঁর একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের নিউজ’। ভিডিওতে তাঁকে স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় দেখা গেলেও, এটি কবে ধারণ করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর প্রকাশের কয়েক দিন পর ভিডিওটি সামনে এলো। ধারণা করা হচ্ছে, সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জনের জবাব দিতেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে কোনো রাজনৈতিক বা জনসম্মুখের অনুষ্ঠানে সরাসরি দেখা যায়নি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বার্তা ও লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নীতিগত নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। এমনকি বাবার জানাজায় তাঁর অন্য ভাইয়েরা উপস্থিত থাকলেও মোজতবার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এর মধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফেব্রুয়ারির সামরিক হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছেন বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বর্তমানে ‘অত্যন্ত কঠিন’ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ইরান সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। সরকারের দাবি, মোজতবা খামেনির আঘাত সামান্য ছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা তিনি নিয়মিতভাবেই দিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ দাবি করেছে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে তেহরানের একটি গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, পেজেশকিয়ানকে কালো কাচে ঢাকা একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে আগে থেকেই একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাকে মোজতবা খামেনি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে গাড়ির জানালা ঢাকা ছিল এবং তাঁদের সরাসরি স্পর্শ বা করমর্দনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁরা কেবল কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমনকি ওই বৈঠকের পর পেজেশকিয়ান নিজেও গাড়িতে শোনা কণ্ঠস্বরটি সত্যিই মোজতবা খামেনির ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এর আগে জুলাইয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আল হাদাস’ ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দাবি করে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানে নেই। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোজতবা খামেনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছেন।
তবে মেহের নিউজের প্রকাশিত সর্বশেষ ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। এর মাধ্যমে ইরান সরকার তাঁর সুস্থতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় থাকার বার্তা দিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ভিডিওটির ধারণের তারিখ প্রকাশ না করা এবং মোজতবা খামেনির সরাসরি বা লাইভ উপস্থিতি না থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থা ও প্রকৃত অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা পুরোপুরি থামেনি।