বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ গড়ার আহ্বান ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা ও ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও উন্নত সামরিক শক্তির মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন আব্বাস আরাঘচি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শন করেছে।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুসলিমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ালে বাইরের যেকোনো প্রতিকূল শক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাঘচি বলেন, এখন সময় এসেছে শুধু নিজেদের ওপর আস্থা রাখা এবং সত্যিকারের ভ্রাতৃত্বকে গ্রহণ করার।
গত কয়েক মাস ধরে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইরানের ভূখণ্ডে হামলার পাল্টা জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে আরাঘচির বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ইরানের একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোর সক্রিয় সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে ইরান। সাম্প্রতিক এই আহ্বানও সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বা ‘মক্কা চুক্তি’র মতো আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রেক্ষাপটেও আরাঘচির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর আহ্বানে পরোক্ষভাবে বিদেশি প্রভাবমুক্ত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।