Global Header Bottom
মারা গেলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি

মারা গেলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি

মারা গেলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি

লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন হোর্হে মেসি। স্ত্রী সেলিয়া কুচিত্তিনি, চার সন্তান লিওনেল, রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে ছিল তাঁর পরিবার।

মেসির ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলেন হোর্হে। মাঠের বাইরে তিনি শুধু বাবাই ছিলেন না, দীর্ঘদিন ছেলের প্রতিনিধি ও পরামর্শদাতার ভূমিকাও পালন করেছেন। মেসির পেশাগত বিষয়গুলো পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল তাঁর।

২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ও হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে ছিল পুরো পরিবার। বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর মেসির আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক কঠিন সময়ের প্রভাব ছিল বলে পরে জানা যায়।

সেই ম্যাচের পর নিজের কান্না নিয়ে মেসি বলেছিলেন, বিষয়টি পুরোপুরি ফুটবলের বাইরের। তিনি তখন কয়েকটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিশ্বকাপের পর বাবাকে দেখতে দ্রুত রোসারিওতে ফিরে যান মেসি। দীর্ঘ সময় বাবার সঙ্গে দেখা না হওয়ায় তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের বয়সভিত্তিক দলে খেলার সময় মেসির হরমোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। আর্জেন্টিনায় সেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়লে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন পথ খুঁজতে শুরু করেন হোর্হে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসির স্পেনে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পরও শুরুটা সহজ ছিল না। নতুন দেশ ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মেসি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য হোর্হে তখন স্পেনেই থেকে যান।

২০০৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে মেসি সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা সব সময় তাঁর পাশে ছিলেন। মেসির সিদ্ধান্তকে সম্মান করে হোর্হে তাঁর সঙ্গে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবেও হোর্হে মেসির ছোট একটি অধ্যায় ছিল। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের বয়সভিত্তিক দলে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন তিনি। পরে সামরিক দায়িত্ব পালনের কারণে ফুটবল ছেড়ে দেন।

পেশাজীবনে কেমিক্যাল টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেন হোর্হে। পরবর্তী সময়ে আকিন্দার একটি কারখানায় যোগ দেন এবং সেখানে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করেন।

মেসি বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পরও হোর্হে খুব বেশি আলোচনার কেন্দ্রে আসেননি। বরং ছেলের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেসির বড় বড় অর্জনের মুহূর্তগুলোতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে প্রায়ই দেখা গেছে।

লিওনেল মেসির জীবনে বাবার অবদান তাই শুধু একজন অভিভাবকের নয়; বরং একজন পথপ্রদর্শক ও নেপথ্যের সহযোগীরও। তাঁর মৃত্যুতে মেসি পরিবার ও বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer