গোপালগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইল ওজোপাডিকো
গোপালগঞ্জ জেলা শহরে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় নিজেদের কার্যালয়, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। সম্ভাব্য হামলা ও নাশকতা ঠেকাতে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকো কার্যালয়, পাওয়ার হাউজ ও দপ্তর ক্যাম্পাসের পাশাপাশি চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় জাতীয় গ্রিডের উপকেন্দ্র থেকে পাওয়া বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণ ওজোপাডিকোর কার্যালয়, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য নাশকতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওজোপাডিকোর সব স্থাপনা এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহল রুটের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের দপ্তরসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাচ্ছি। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তাই দপ্তর, উপকেন্দ্রসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছি।”