সর্বশেষ

সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়লো সোনা-রুপার দাম

একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়লো সোনা-রুপার দাম

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা।

রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ১৭৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ১৭৩ টাকা।

সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের তথ্য জানানো হয়।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী—

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৭৪,১০৪ টাকা (বৃদ্ধি ৫,৪২৪ টাকা)

  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৬১,৬৮২ টাকা (বৃদ্ধি ৫,২৪৯ টাকা)

  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,২৪,২৯৯ টাকা (বৃদ্ধি ৪,৪৯১ টাকা)

  • সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৮৩,৫৩৩ টাকা (বৃদ্ধি ৩,৬৭৪ টাকা)

রুপার নতুন দাম

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৭,১৭৩ টাকা (বৃদ্ধি ১৭৬ টাকা)

  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬,৮৮২ টাকা (বৃদ্ধি ১৭৫ টাকা)

  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫,৮৯০ টাকা (বৃদ্ধি ১৭৫ টাকা)

  • সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৪,৪৩২ টাকা (বৃদ্ধি ১১৬ টাকা)

গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও দাম বাড়ানো হয়। তখন ২২ ক্যারেট সোনার ভরি দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।

নতুন সিদ্ধান্তে দাম আবার বাড়লেও, জানুয়ারির রেকর্ড দামের নিচেই অবস্থান করছে বর্তমান বাজার।

অস্তিত্ব রক্ষায় ইরানের পক্ষে লড়াইয়ে শামিল হিজবুল্লাহ

অস্তিত্ব রক্ষায় ইরানের পক্ষে লড়াইয়ে শামিল হিজবুল্লাহ

১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah কার্যত একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে চলছিল। ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিনের হামলার জবাবে তারা বড় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল, অনেকেই মনে করছিল এক সময়ের শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিটি হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কিন্তু আত্মসমর্পণের পথে যায়নি হিজবুল্লাহ। অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তারা নিজেদের অবস্থানে অটল ছিল। অবশেষে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে।

এই হামলাকে শুধু ইসরায়েলের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় ইরানের পক্ষে নিজেদের অবশিষ্ট সক্ষমতার জানান দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে গোষ্ঠীটি।

Iran দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী। তেহরানের সমর্থন ছাড়া সংগঠনটির অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন, যোদ্ধাদের বেতন দেওয়া কিংবা সামাজিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা হিজবুল্লাহর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলানোর দিকেও নজর দিচ্ছে—যেখানে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক পদক্ষেপে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে।

গোষ্ঠীটির সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহ হাজার হাজার যোদ্ধা হারিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের সামরিক শাখা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তারা এমন এক লেবানিজ জনমতের মুখোমুখি, যারা দীর্ঘ সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্লান্ত।

এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী Nawaf Salam-সহ অভ্যন্তরীণ বিরোধীরা ইসরায়েলে হামলার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চলমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ কতটা কার্যকরভাবে ইসরায়েলকে ক্ষতি করতে পারবে কিংবা ইরানকে বাস্তব সহায়তা দিতে পারবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আঞ্চলিক অস্থিরতা যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করব না: লারিজানি

আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করব না: লারিজানি


মার্কিন গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব Ali Larijani।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করব না।”

এর আগে The Wall Street Journal এক প্রতিবেদনে জানায়, খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর লারিজানি ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই দাবির পরই স্পষ্ট অবস্থান জানান তিনি।

এদিকে ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (১ মার্চ) মার্কিন গণমাধ্যম The Atlantic-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়, আমিও রাজি হয়েছি। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, এ পদক্ষেপ আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

লারিজানির সরাসরি অস্বীকৃতি ও ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১, কুড়িগ্রাম-২, রংপুর-৬ ও রংপুর-৪ আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপির চার প্রার্থী।

সোমবার (২ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর একক বেঞ্চে এসব আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আবেদনকারীরা হলেন—

  • কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ

  • রংপুর-৬ আসনে বিএনপির মো. সাইফুল ইসলাম

  • রংপুর-৪ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা

  • রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন

এর আগে রোববার বিএনপির প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর এবং পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের পৃথক আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার আরও চারটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪ আসন। আবেদনকারী প্রার্থীরা হলেন:

  • শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন

  • ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান

  • ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের মো. এনায়াত উল্লাহ

  • গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের মো. আবদুর রহিম সরকার

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে ‘নির্বাচনী আবেদন’ শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় উল্লেখ রয়েছে, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (২০০১ সালের সংশোধনীসহ) অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদন, সংশ্লিষ্ট রুল ও আবেদনপত্র গ্রহণ এবং শুনানি এই বেঞ্চে সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)।

ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ইরানি-বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনপ্রণেতার

ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ইরানি-বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনপ্রণেতার

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ইরানি-বংশোদ্ভূত দুই আইনপ্রণেতার একজন।

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি জেলা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্য Yassamin Ansari সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের কোনো সুস্পষ্ট বা ইতিবাচক পরিকল্পনা আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

ইয়াসমিন আনসারির বাবা-মা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিজের পোস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্প যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাতে ইরান প্রসঙ্গেও তার সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই আশঙ্কা যেন ভুল প্রমাণিত হয়।

তার ভাষায়, প্রায় ৯ কোটি ইরানি নাগরিক একটি উন্নত ভবিষ্যতের অধিকারী। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় আমেরিকানদের জীবনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এদিকে ইরানের ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া অভিযানে তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ডের সদরদপ্তর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবন থেকে দেওয়া ভিডিও ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান। অন্যথায় তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।

আটকে পড়া যাত্রীদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী। পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকায় কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দরে যান। তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং চলমান সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে বিমানবন্দরের পরিস্থিতি ও যাত্রীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার বিষয়টি আরিফুল হক নিজেই নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী জানান, সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ৫০ জন যাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে সিভিল এভিয়েশন আরও ৮০০ জনের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

ওমানের মাস্কাটগামী ফ্লাইটের ৫৩ জন যাত্রী সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের হোটেলে পাঠানো হয়েছে এবং সেহরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরদিন এসি বাসে তাদের সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার বিকেল থেকেই ঢাকা থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। হঠাৎ নেওয়া এ সিদ্ধান্তে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ভুল’ করেছে: হারলান উলম্যান

খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ভুল’ করেছে: হারলান উলম্যান

খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ভুল’ করেছে: হারলান উলম্যান

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় কৌশলগত ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Atlantic Council-এর উপদেষ্টা ও কিলওয়েন গ্রুপের কৌশলগত উপদেষ্টা চেয়ারম্যান Harlan Ullman।

Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উলম্যান বলেন, খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি এখন ইরানে একজন শহীদে পরিণত হয়েছেন। তার মতে, যদি আলি লারিজানি জীবিত থাকেন, তবে তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। উলম্যানের ভাষায়, লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং তিনি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

উলম্যান আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্বের কাছ থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনার আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, গত জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর দেশটির পরিস্থিতি যেমন হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন অনড় অবস্থানই দেখা যেতে পারে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি Ali Larijani খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন—এ প্রসঙ্গে উলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আসলে লারিজানিকেই আরও শক্তিশালী করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

তার মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নির্মূলের কৌশল তখনই কার্যকর হয়, যখন সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। উলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বলেই এই কৌশল উল্টো ফল দিতে পারে।