প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে—দল থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধায় শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধাও নেবেন না।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সংসদীয় দলের এ সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানানোর আগে সরকার ও দলীয় এমপিদের মাধ্যমেই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি ও নিয়মে। দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তির পরিবর্তে আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে বর্তমান সরকার অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস; এ সময় অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানান তিনি। মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সবার স্বার্থ সংরক্ষণে যেকোনো পরামর্শ বা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত।
রমজান মাসে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অপচয় রোধ ও কৃচ্ছতা সাধনকে তিনি ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
