সর্বশেষ

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়

ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তবে ব্যস্ত জীবনধারা, রাত জাগা, স্ক্রিনের দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং চাপজনিত কারণে মানসম্মত ঘুম অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কম ঘুম কেবল ক্লান্তি নয়, এটি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, মেজাজ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ঘুমের খারাপ মানের লক্ষণ

  1. সকালে মাথাব্যথা: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

  2. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল: তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা, ছোটখাটো ভুল।

  3. অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ: ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।

  4. মেজাজ পরিবর্তন ও খিটখিটে ভাব: রাগ, উদ্বেগ বা অস্থিরতা বৃদ্ধি।

  5. ত্বকের জৌলুস কমে যাওয়া: শুষ্ক ও নিস্তেজ ত্বক, অকাল বলিরেখা।

  6. চাপ সামলানোর ক্ষমতা কমে যাওয়া: ছোট সমস্যাও বড় মনে হওয়া।

  7. পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগা: গভীর ঘুমের অভাব বা ঘুমের ধাপে সমস্যা।

  8. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: সংক্রমণে ঝুঁকি বৃদ্ধি।

  9. হজমজনিত সমস্যা: গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি।

ভালো ঘুমের জন্য পরামর্শ

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো।

  • ঘুমের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বা ভারী খাবার এড়ানো।

  • ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখা।

  • ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো।

  • ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন অনুশীলন।

  • দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

মনে রাখবেন: ভালো ঘুম শুধু আরাম নয়, এটি সুস্থ জীবনযাপনের ভিত্তি। ছোট লক্ষণগুলো অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ফাগুনের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবস আজ

ফাগুনের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবস আজ

বসন্তের রঙে ঢাকা, ভালোবাসার আবেশে উৎসব

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টানা রাজনৈতিক উত্তাপের পর শহরের বাতাসে এবার ভিন্ন সুর। ভোটের কোলাহল পেরিয়ে ঋতুরাজ বসন্ত এসে ছুঁয়ে দিল ভালোবাসার রঙে রাঙানো এক সকাল। একই দিনে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস মিলে যেন শহরকে দিয়েছে নতুন এক আবহ।

বাংলা পঞ্জিকা মেনে প্রতিবছরের মতো এবারও ‘বসন্ত উৎসব’ আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। আগে যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ–এর বকুলতলা ছিল এই উৎসবের চিরচেনা ঠিকানা, এবার সেই আয়োজন বসেছে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর–এর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

সকালের আলো ফুটতেই ভেসে আসে দলীয় সংগীত, নাচ-গান আর কবিতার আবৃত্তি। সংস্কৃতিপ্রেমীরা দল বেঁধে উৎসবকে বরণ করে নেন। তরুণীদের পরনে হলুদ, বাসন্তী আর কমলা শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মুকুট। ছেলেদের গায়ে রঙিন পাঞ্জাবি। পোশাকের এই উচ্ছ্বাস যেন শহরের ধূসর ক্লান্তিকে মুহূর্তেই সরিয়ে দেয়।

ঢাকার যান্ত্রিক ব্যস্ততা যেখানে প্রতিদিনের চেনা ছবি, সেখানে বসন্ত উৎসব একদিনের জন্য হলেও মানুষকে টেনে আনে রঙ, গান আর ভালোবাসার ভেতর। রাজনীতি, নির্বাচন, ব্যস্ততা—সব কিছুর বাইরে দাঁড়িয়ে এই দিনটা যেন মনে করিয়ে দেয়, জীবনের আরেকটি দিকও আছে। সেখানে আছে ঋতুর বদল, আছে ফুলের গন্ধ, আছে মানুষে মানুষে সংযোগের উষ্ণতা।

রেকর্ড গড়ে দেশের নেতৃত্বে তারেক রহমান

রেকর্ড গড়ে দেশের নেতৃত্বে তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির ইতিহাসটা দেখলে একটা ধারাবাহিক ওঠানামা স্পষ্ট দেখা যায়।

দলটি গঠনের পর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিয়াউর রহমান–এর নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম অংশ নেয় এবং ২২০টি আসনে জয় পায়। এরপর খালেদা জিয়া–এর নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ১৪০টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ নির্বাচনে বিএনপি ২৮৭টি আসন পেলেও ওই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছিল। একই বছরের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ১১৬টি আসন পায়। আর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়লাভ করে।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্বে দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক ঘটনা। দুইটি আসনে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।

এখানে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—বিএনপির রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতা যেমন আছে, তেমনি আছে প্রতিবার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা। তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা আরও স্পষ্ট। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার, কারাবাস, পরে লন্ডনে চিকিৎসা—সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় সরাসরি দেশের রাজনীতির বাইরে থেকেও দলকে সংগঠিত রাখা সহজ ছিল না।

দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান, সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ—এসব তাঁর নেতৃত্বের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ৩১ দফা পরিকল্পনা, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্ডের প্রস্তাব, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক ভাবনা—এসবকে সামনে রেখে তিনি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

তবে রাজনীতিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হয় সময়ের বিচারে। নির্বাচনী বিজয় এক বিষয়, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা আরেক বিষয়। সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে—দলীয় ঐক্য ধরে রাখা, বিরোধী মতের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করা, এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপির ইতিহাসে এটি একটি বড় অধ্যায়। এখন দেখার বিষয়—এই বিজয়কে কতটা কার্যকর রাষ্ট্রনীতিতে রূপ দেওয়া যায়।

রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ

রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তারা কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন।

রংপুর-৪: হামলার অভিযোগ

রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করছে।

তার অভিযোগ, কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে, মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে শাপলা প্রতীকে আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।

রংপুর-৬: উপজেলা পরিষদ ঘেরাও

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। সন্ধ্যায় তারা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে ফল পুনর্গণনার দাবি জানান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। জাতীয় পার্টি–এর নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই নির্ধারিত হবে: ফখরুল

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই নির্ধারিত হবে: ফখরুল

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপরই নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার গুলশানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকেই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আনন্দের পাশাপাশি বিষাদও রয়েছে। কারণ দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই বিজয় দেখে যেতে পারেননি। বহু প্রাণের বিনিময়ে এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, এই বিজয়ে তিনি অভিভূত। তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—অর্থনীতি সচল করা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমন।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি।

গণভোটের ভুল তথ্য সংশোধন করল ইসি

গণভোটের ভুল তথ্য সংশোধন করল ইসি

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬২ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে এবং ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোটার ‘না’–এর পক্ষে মত দিয়েছেন। অধিকাংশ আসনে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলেও ১১টি আসনে ‘না’ ভোট এগিয়ে ছিল।

তবে ফল প্রকাশের পর হিসাব নিয়ে গরম আলোচনা শুরু হয়। প্রকাশিত তথ্যে গরমিল ধরা পড়ায় পরে সংশোধিত ফল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

রাজশাহী-৪ আসনে অস্বাভাবিক কাস্টিং হার

প্রথম ঘোষণায় রাজশাহী-৪ আসনে গণভোটের কাস্টিং হার দেখানো হয় ২৪৪ দশমিক ২৯৫ শতাংশ। সেখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন হলেও কাস্ট ভোট দেখানো হয় ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩টি। ‘না’ ভোট ৬ লাখ ১২ হাজার ২২৯ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ উল্লেখ করা হয়।

সমালোচনার মুখে সংশোধিত তথ্যে কাস্টিং হার দেখানো হয় ৭২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং কাস্ট ভোট ২ লাখ ৬ হাজার ৬১১। তবে ‘না’ ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা আগের মতোই উল্লেখ থাকে, যা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে হার নিয়ে গরমিল

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রথমে গণভোটের কাস্টিং হার দেখানো হয় মাত্র ৭ দশমিক ৮৯৯ শতাংশ। অথচ একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সেখানে ভোট পড়েছিল ৬০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই আসনে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী সেলিম রেজা।

পরে সংশোধিত ফলাফলে সিরাজগঞ্জ-১–এ গণভোটের হারও ৬০ দশমিক ৮৩ শতাংশ দেখানো হয়।

জাতীয় চিত্র

প্রথম ঘোষণায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’–এর পক্ষে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট দেখানো হয়। ২৯৯টি আসনে গড় কাস্টিং হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

পরে সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ দেখানো হয়। একই সঙ্গে গড় কাস্টিং হার সংশোধন করে ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।






নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ

নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে গণভোটও হয়। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সর্বাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮০ জন। নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকাশিত গেজেট এখানে

আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল

  • বিএনপি: ২০৯ আসন

  • জামায়াতে ইসলামী: ৬৮ আসন

  • এনসিপি: ৬ আসন

  • স্বতন্ত্র: ৭ আসন

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২ আসন

  • গণঅধিকার পরিষদ: ১ আসন

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ১ আসন

  • গণসংহতি আন্দোলন: ১ আসন

  • খেলাফত মজলিস: ১ আসন

  • বাংলাদেশ জনতা পার্টি (পার্থ): ১ আসন

এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।