সর্বশেষ

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তারেক রহমানকে অভিনন্দন: সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লেখার জন্য উন্মুখ চীন

তারেক রহমানকে অভিনন্দন: সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লেখার জন্য উন্মুখ চীন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস, ঢাকা তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা প্রকাশ করে।

বার্তায় বলা হয়, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুচারু ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপিকে অভিনন্দন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।

একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সারাদেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ২১০টি আসনে বেসরকারিভাবে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে বিএনপি।

এর আগে শেহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই ধারাবাহিকতায় শি জিনপিং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে।

সূত্র: চীন দূতাবাসের ফেসবুক পেজ

বাংলাদেশের জনগণ ও তারেক রহমানকে শেহবাজ শরিফের অভিনন্দন

বাংলাদেশের জনগণ ও তারেক রহমানকে শেহবাজ শরিফের অভিনন্দন

 

শেহবাজ শরিফ শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জনের জন্য তারেক রহমান–কে উষ্ণ অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করায় বাংলাদেশের জনগণ প্রশংসার দাবিদার। দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তার বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে উন্নত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুল বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন। পাশাপাশি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও শুভেচ্ছা জানান।

এই বার্তা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম The Nation।

জয়ের পর নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন রুমিন ফারহানা

জয়ের পর নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন রুমিন ফারহানা

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীব পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নেতা–কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি লেখেন, নেতা–কর্মীদের শ্রম, ঘাম, কষ্ট, দোয়া ও ভালোবাসাতেই তার এই অবস্থান। এই জয় তাদেরই জয়—তাদের প্রতি তিনি অভিবাদন জানিয়েছেন।

৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ

৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তাদের জোট নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। অধিকাংশ আসনে বিজয়ের ফলে নতুন সরকারের নেতৃত্বে আসতে পারেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র বলছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ আবার একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাবে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সরকারপ্রধান ছিলেন নারী নেত্রীরা।

তবে মনে রাখতে হবে, এসবই বেসরকারি ফলাফল। সরকার গঠন বা নেতৃত্বের বিষয়টি চূড়ান্ত নয়—আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯০ সালের পর থেকে আর কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি। দীর্ঘ সময় সরকার পরিচালনায় ছিলেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এদিকে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাদজুমা সারা দেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

বিপুল আসনে বিজয়ের পর দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বিএনপির

বিপুল আসনে বিজয়ের পর দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, শুক্রবার বাদ জুম’আ ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করা হবে।

তবে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পরও কোনো আনন্দ মিছিল বা সভা না করার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। ঢাকা ও দেশের সব উপজেলা ও থানায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে মসজিদে আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে সারাদেশে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদেরও সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

সাতক্ষীরা জেলার ৪ আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী

সাতক্ষীরা জেলার ৪ আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক খরা কাটিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় রাজকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই দলটির মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকে ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থীরাই।

বিজয়ী প্রার্থীরা

  • সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): মো. ইজ্জত উল্লাহ

  • সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

  • সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): মুহাদ্দিস রবিউল বাসার

  • সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আংশিক): জি এম নজরুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের এই জেলায় দীর্ঘ সময় পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল স্পষ্ট উৎসাহ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গড়া শক্ত নিরাপত্তা বলয় মাঠে ছিল।

বিজয় মিছিল নয়, শোকরানা, ফলাফল ঘোষণার পর দলীয় আমিরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো বিজয় মিছিল বা স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের শোকরানা সিজদা দিতে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাতক্ষীরা ঐতিহাসিকভাবেই জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি। ২০০১ সালের নির্বাচনেও জেলায় দলটি তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন, সুশৃঙ্খল প্রচারণা ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয়ের ফলেই চারটি আসনেই জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ: ইসি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ: ইসি

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারাদেশে ভোটার উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দীর্ঘ দেড় বছর পর আয়োজিত এ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা হিসেবে দেখছে কমিশন। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে উপস্থিতির হার ছিল ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।

ইসির পরিসংখ্যান বলছে, পোস্টাল ব্যালটে প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোটের হার ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রবাসীদের পাশাপাশি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কারাগারে থাকা বন্দিরাও এই ব্যবস্থায় ভোট দেন।

২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়। এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ প্রধান দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ফলাফল আসতে শুরু করে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ১৮৩ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি ও তাদের জোট। ৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ৫টি আসনে জয় পেয়েছে অন্যান্য দল। আর একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।